Description

আপনি কনিকা ভট্টাচার্য, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার। পড়াশোনার ব্যাপারে ছোটবেলার মনোযোগী না হলেও এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে খুবই মনোযোগী হই। নিজে কিছু করতে হবে সেই প্রবল আকাঙ্ক্ষা তখন থেকে শুরু হয়। এইচএসসি পরীক্ষার পর ঢাকা ইউনিভার্সিটি’তে বিবিএ তে ভর্তি হই। বিবিএ পড়াকালীন সময়ে বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর কিছুদিন চাকরি করে বিবিএ শেষ করে। তারপর সংসার, বাচ্চা পাশাপাশি এমবিএ পড়াশোনা সবমিলিয়ে চাকরি করাটা খুব কষ্টকর হয়ে যায়। এভাবেই কাটছিল দিন, হঠাৎ ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসের দিকে মনে হল এভাবে আর কতদিন চলবে, চাকরি তো আর করা যাবে না বাচ্চা বড় না হওয়া পর্যন্ত। আমি কি করতে পারি, কিভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি, কিভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে নিজে।
আমি তখন আমার Strength খুঁজে বের করলাম, পাশাপাশি আমার Weakness.
এর সাথে সাথে opportunity এবং Threats কি হতে পারে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম এবং লিখলাম।‌
লেখার পর মনে হল আমার Strength হল আমার ডিজাইনিং সেন্স, ঝটপট ধরে ফেলতে পারে কোন কিছু, আমার adaptability, crafting ইত্যাদি।
কোন একটা এড্রেস যদি কখনো পছন্দ করতাম বান্ধবীরা বা আশেপাশের লোকজন খুব পছন্দ করত। ওই ব্যাপারটাই প্রথম মাথায় আসে।
ঠিক ওই মুহূর্ত থেকে কাজে নেমে পড়ি। নিজের জন্য কেনা একটা জামদানী শাড়ির ছবি তুলি, page create এবং আপলোড করি।
পাশাপাশি পন্যের সোর্স খুঁজতে থাকি। তারপর কিছু ব্যাগ কিনি, দু-তিন দিনের মধ্যে ব্যাগ সেল শুরু করে।
কিন্তু ডেলিভারি কিভাবে দিবে বুঝতে পারছিলাম না।
হঠাৎ একটা মাধ্যমে একটা কুরিয়ার কোম্পানিতে রেজিস্ট্রেশন করি এবং পণ্য ডেলিভারি দেয়া শুরু করি।
এরপর থেকে কাজ শুরু হয়। আমি কাপড় কাজ করি নিজস্ব ডিজাইনের শাড়ি ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ড প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট ইত্যাদি, এবং রেডিমেট পোশাক নিয়েও।
এর পাশাপাশি ক্রাফটিং শুরু করি। হ্যান্ড মেড জুয়েলারি বানাতে আমার খুব ভালো লাগে, এটা আমার প্যাশন। পাশাপাশি রেডিমেড জুয়েলারি নিয়ে ও কাজ করি।‌

কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব দেই ক্রেতার চাহিদাকে। কাস্টমাইজড কাজ করতে বেশি পছন্দ।
এতে ক্রেতা বেশি তৃপ্তি পান পন্য হাতে পেয়ে। ক্রেতা তখন মনে করেন উনার কল্পনাশক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই পন্যতে। আর আমার ক্রেতার সাথে কথা বলতে বলতে ক্রেতার চাহিদা বুঝতে পারে কাজ করে দেয়া খুব ইন্টারেস্টিং লাগে। ক্রেতার একবার পণ্যটি পছন্দ হলে তিনি তখন লয়াল কাস্টমারে পরিণত হন‌।
‘প্রতিটা ক্রেতা আমার শক্তি, ত্রিনয়নীর শক্তি।’

দুই বছরের একটু বেশি সময় ধরে কাজ করছি আমার ত্রিনয়নী নিয়ে। ত্রিনয়নীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই বহুদূর। এভাবেই সবাই পাশে থাকবেন এটাই কামনা করি। ধন্যবাদ।