Description

#পরিচয়_পর্ব আমি কামরুন নাহার স্বপ্না ।যদিও সবাই fb তে স্বপ্না ত্রিবেণী নামেই জানে। ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জননী। অনলাইনে 3 টা পেইজ আছে ।যদিও আমি খুব একটা গুছানো না। আমার পেইজ ও তাই।😋😋1 Make up Passion 2 রঙের ছোঁয়া 3 স্বপ্নছোঁয়া অনলাইনে বিজনেজএ যদিও খুব একটা জনপ্রিয় বা পুরনো না। কিন্তু বুকিক্স নিয়ে কাজ করছি অনেক অনেক আগে থেকেই। ত্রিবেণী নামটা আমার সেখান থেকেই হয়েছে। ছোট করে গল্পটা বলে ফেলি। বিবাহিত জীবনে পড়াশুনা সংসার বাচ্চা নিয়ে যখন হিমশিম খাচ্ছিলাম তখন কিছু একটা করার খুব তাগিদে এক বান্ধবীর কাছে থেকে ব্লক, বাটিক এর কাজ শিখি। যদিও অনেক টিউশনি করতাম কিন্তু বাচ্চা রেখে সারাদিন বাইরে থাকাটা টাফ হয়ে যেতো। ব্লক বাটিক শিখেও ঘরে বসে কাজ করতে পারলাম না। ওগুলা করার জন যা প্রয়োজন তা ছিলো না। সারাদিন তালতলা মার্কেটে লাইন দিয়ে কাজ করে এনে অর্ডার নিয়ে বাসায় বাসায় দিয়ে আসতাম। কিন্তু তাতে পরিতৃপ্তি বা আর্থিকভাবে খুব একটা উপকৃত হতে পারলাম না। 3 বান্ধবী মিলে ডিসিশন নিলাম নিজেরা বাসায় কাজ করবো। তিনজনের একটা বুটিক্স খুলবো কি নাম দেয়া যায় ভাবতে ভাবতে নাম দিলাম ত্রি-বেণী । তিনজন মেয়ে বলেই এই নাম। একজন ভালো সেলাই করতো, আরেকজন খুব দ্রুত ব্লক করতে পারতো আর আমি খুব ভালো রং বানাতে পারতাম। 2400 টাকা দিয়ে আমারদের ত্রি-বেনীর শুরু। এটা 1999 ,2000 কথা। আমরা খুব দ্রুত ই এগিয়ে যাচ্ছিলাম । পড়াশুনা সংসার বাচ্চা নিয়ে মোটামুটি চলছিলো ঘরের মধ্যেই আমার ত্রি বেণী। খাবার টেবিলে , ফ্লোর এ বসে ব্লক করতাম । বাটিক ও করতাম। মোম বাটিক ও ।বাড়িওলা অবজেকশন দিতে শুরু করলো। আমি সারাদিন ক্লাস বাচ্চা নিয়ে কাজ শেষ করতে পারতাম না। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে কাজ করতাম। যাই হোক চলছিলো এভাবেই 2004 এ এসে আমাদের ত্রি-বেণী,তে ভাঙ্গন শুরু হয়। একজন চলে যায় তার বাবু হবে বলে অন্য জন পড়াশুনার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। আমি অকুল সাগরে পরি। তাদের কে তাদের ভাগ বুঝিয়ে দেই ।আর আমার কাছে সব ব্লকের সরঞ্জাম রয়ে যায়। অনেকদিন বসে থেকে এর মাঝে কিছু জব এ জয়েন করেও ছেড়ে দেই। বাসা থেকে জবের চাপ আসে কিন্তু আমার হাসবেন্ড পছন্দ করতো না জব করা। আবার শুরু করি নিজে একাই আমার ত্রি-বেণী। এবার বেশ এগিয়ে যাই । যে বাসায় ভাড়া থাকতাম তাদের একটা ফ্লোর খালি ছিলো।।আমার ব্লক বাটিক তখন এতটাই পপুলার হয়েছিলো আমি একা কাজ করে পোষাতে পারছিলাম না। আমি 3 টা ব্লক এর টেবিল ফেলি সাথে কর্মচারী নেই। এটা আল্লাহর রহমতে এত পরিচিতি পায় সবাই বলে সাথে টেইলার্স আর এমব্রয়ডারি ও এড্ড করতে। আমার ভাই একটা ওই বাসার ই নিচতলায় ভাড়া থাকতো। ওর রুমখালী থাকতো। ও সারাদিন থাকতোনা। ঐটা কে কারখানাকরে ফেলি।শুরু হয় ত্রিবেণী র আরেকটু বড় পরিসরে চলা। । 2007 আমি 2nd কন্যার মা। হই বাচ্চা নিয়েই চলতে থাকে সব ।ওর যখন 6 মাস হলো তখন মনে হলো এবার একটা শোরুম দেই সাথে কারখানা। কারণ এত কাজ বাসার মধ্যে করা পসিবল ছিলো না। এক বছর ওয়েট করলাম বাচ্চা ছোট বলে । 2008 আমার প্রথম শোরুম ওপেন করি। মাশাআল্লাহ সেটা অনেক পসার লাভ করে। নতুন যুক্ত হয় স্কীনপ্রিন্ট আর কারচুপি। 9 জন কর্মচারী সেখানে কাজ করতো। অনেক বড় বড় শোরুম থেকে অর্ডার আসতো। আমি কোন অন্য কোনো দোকান ,মার্কেটের কিছু ই সেল করতাম না।সব ছিলো নিজের তৈরি আর ডিজাইন করা।আল্লাহর রহমতে আমি 70000 টাকা মাসে কর্মচারীদের বেতন দিতাম। ত্রিবেণী নিয়ে আমি দিন রাত এক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু 2012 তে এমন এক প্রবলেম এর মুখমুখি হলাম আমার মেয়েদের নিরাপত্তা র কথা ভেবে আমাকে আমার নিজের এলাকা যেটা আমার জন্মস্থান সেটা ছাড়তে হলো। কর্মচারী দের হাতেশোরুম ছেড়ে আমি চলে গেলাম। মাঝে মাঝে আসতাম। এভাবে এক বছরের বেশি চললো আমার ত্রি-বেণী। কিন্তু নিজের কাজ অন্য কে দিয়ে কি হয় ??লস হতে হতে জামানত এর টাকা টাও চলে গেল। একসময় রাগ করে মাত্র 8000 টাকায় মেশিন বিক্রি করে দিলাম আর বাকি মেশিনপত্র কর্মচারী নিয়ে পালিয়েছিল। যাই হোক 2013 থেকে আমি ঘরে বসে থাকলাম পাক্কা গৃহিণী হয়ে।কিন্তু কোনভাবেই নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছিলাম না 2 টা বছর এভাবেই কাটলো। 2015 তে এসে আবার শুভাকাঙ্ক্ষী দের অনুরোধ আর নিজের আত্মসমান কে বাঁচাতে আবার কাজ শুরু করলাম । তখন পরিচয় হলো Popy Islam Nishi Hanif এদের সাথে। ওনাদের সবার ই অনলাইনে বিজনেস ছিলো।কিন্তু আমি ভয় পেতাম অনলাইনে কিছু করতে। সবাই ফোর্স করতে থাকলো অনলাইনে পেজ খোলার জন্য। নিশি হানিফ, জান্নাত ফেরদৌস আর পপি ইসলাম মিলে পেজ খুলে দেয় ফ্যাশন ডিভাস নামে। নিশি হানিফ ও অন্যরা মিলে পেজ এর কাজ করে দিতো। একটু একটু করে আমাকেও শিখাতে লাগলো। কিন্তু এবার ও অঘটন ঘটলো। কোন কারণে পেজ টা বন্ধ হয়ে গেল। তখন নতুন পেজ খুলে দিল nishi hanif। makeup passion . কিন্তু আমার শোরুমের নেশা যাচ্ছিলো না ।আবার একটা শোরুম খুলে ফেললাম রঙের ছোঁয়া নামে । 2018 এর 29 নভেম্বরে ।এখনো চলছে। যদিও কোনটা তেই সেভাবে সফল হতে পারিনি কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আর এই অপূর্ন তা থেকেই স্বপ্ন ছোঁয়া নামে নতুন একটা অনলাইন পেজ করেছি। আমার মনে হয় আজো আমি আমার স্বপ্ন কে ছুঁতে পারিনি পৌঁছেতে পারিনি আমার লক্ষ্যে । তাইতো এখনো এই বয়সে স্বপ্ন বুনি😊😊 আমি ছোট করে গুছিয়ে কিছু লিখতে পারি না।😋😋😋 nishi haif কে ধন্যবাদ আমাকে add আর মডারেটর করার জন্য। ভালো থাকবেন সবাই। সুস্থ সুন্দর ভাবে সবাই যেন এক হয়ে এগিয়ে যেতে পারি এটাই কাম্য😍😍😍😍

Photos