Description

2010 সালে যখন ঢাকায় আসি হোম ইকোনমিক্স কলেজ এ ভর্তি হতে তখনই মনের ভেতর ঘুরতে থাকে নিজে যদি টাকা রোজগার করতে পারতাম। খুব ভালো হতো আব্বুর উপর চাপটা কমতো।ভাবলাম টিউশনি করব পড়াশোনার পাশাপাশি এটাই টাকা ইনকাম করার ভালো একটা সোর্চ।কিন্তু বললেই কি হয় নাকি?? একটা পার্টটাইম জব শুরু করলাম বাড়িতে না জানিয়ে কিন্তু লেখাপড়ার চাপে সেটা বাদ দিতে হলো। কিন্তু মাথায় ঘুরতে থাকলো নিজের আয় করা টাকা দিয়ে প্রিয়জনদের জন্য কিছু করার মজাই আলাদা এবং সুযোগ পেলে তা হাতছাড়া করা যাবে না।একবার শখের বশে হাতে সেলাই করে কিছু ওয়ালমেট এর ছবি ফেসবুকে দিয়েছিলাম, শুধু শেয়ার করার জন্য।কিন্তু মানুষ নক করতে শুরু করলো এগুলো বিক্রি করি কিনা জানতে চাইলো। জিজ্ঞেস করতে লাগল, আমিও ভাবলাম এই তো সুযোগ বিক্রিও করলাম বেশ ভাল টাকায় কিন্তু ভুল ভাঙলো অল্পদিনেই এত পরিশ্রম আর সময়সাধ্য কাজ একার পক্ষে করা সম্ভব না। আর যদি সম্ভব করতে যাই তাহলে অন্য সব কিছু মাথায় উঠবে। আবার সবকিছু বন্ধ করে দিলাম।
এরপর জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে 2017 সালে শুরু হল সংসার। সবকিছু ভালোই চলছে কিন্তু মনের খচখচানি তা আবার শুরু হল। প্রিয়জনদের জন্য নিজের টাকায় কিছু করা!!এরমধ্যে মাতৃত্ব। ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান এলো আমার কোল আলো করে। ২০১৯ সালে আমার আব্বু চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে। স্বামী-সন্তান-সংসার কোন কিছুতেই মন বসাতে পারছি না, একটা হাহাকার একটা শূন্যতা চেপে বসল নিজের অজান্তেই সবকিছু থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছিলাম।সবকিছু দেখে আমার হাজবেন্ডের মনে হলো আমাকে কোন কাজে ব্যস্ত রাখলে হয়তো স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে জীবনে। ধীরে ধীরে বলা শুরু করল আচ্ছা এই কাজটা করা যায় কোন একটা বিজনেস কি শুরু করা যায়। কিছুদিন পর নিজের ভেতর থেকে আওয়াজ পেলাম কিছু একটা শুরু করতে হবে কি করি কি করি?? প্রথমে মাথায় এলো থ্রি পিস নিয়ে কাজ করা যায়। এর পর আমার ছোট্ট বেবিটা কে নিয়ে ঘুরে ঘুরে অল্পকিছুদিনের শুরু করলাম Veronica, সব নতুন উদ্যোগতাদের বেলায় যেমনটা হয় তেমন ভুল আমিও করলাম ভেবেছিলাম কাছের মানুষদের হেল্প পাব আত্মীয়-স্বজন যারা ফেসবুকে আছে তারাই আরো বেশি মানুষের কাছে আমাকে পৌঁছে দিবে।কিন্তু না সবই ভুল। চিন্তা ভাবনা বদলে গেল অল্পদিনেই বিভিন্ন গ্রুপে অ্যাড হলাম তাদের টিপস ও ট্রিক্স শিখতে চেষ্টা করলাম প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি সহ আরো কত কি যে শিখতে শুরু করলাম বলে বোঝানো যাবে না।যখন প্রথম প্রোডাক্ট সেল হল খুব আনন্দ হচ্ছিল।এভাবেই শুরু হলো আমার উদ্যোক্তা জীবন ধীরে ধীরে সফলতা আসতে শুরু করেছে। শুরু করেছিলাম শুধু থ্রি পিস নিয়ে এখন ব্যাগ নিয়েও কাজ করছি।ইনশাআল্লাহ আরো অনেক কিছুই যুক্ত হবে। চেষ্টা করছি আরও পরিশ্রম দিয়ে Veronica কে একটা ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে, একটা ব্র্যান্ড তৈরি করতে। আমি স্বপ্ন দেখি একটা ব্রান্ড হবে যা কিনা নিজেই নিজের প্রোডাক্ট তৈরি করবে শত শত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

Photos