Description

ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক কারণে আমি আমাদের পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সাথে একটু বেশি আপন। প্রতিটা উৎসব খুব আয়োজন করে পালন করা হতো। পড়াশোনার জন্য যখন ঢাকা যাই তখন খেয়াল করি বেশিরভাগ মানুষই আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানে না বা ভুল জানে। প্রথম দেখাতে একটা প্রশ্নের খুব সম্মুখীন হতাম, ‘আমরা কি গাছের উপর ঘর বানিয়ে থাকি?’ অথবা ‘আমরা কি খাই’ তখন বেশ মনে লাগতো কথাটা। কিন্তু চেষ্টা করতাম তাদের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার। পড়াশোনার শেষ করে প্রতিটি আইন শিক্ষার্থীর মত আমিও কোর্টে যাতায়াত শুরু করি। কিন্তু কেন জানি কর্মক্ষেত্রে গিয়ে এই পেশাকে আপন করে নিতে পারি নি। এরপর একটি বেসরকারি চাকরী করি। এখানে চাকরি করার সময় এক বন্ধুর কাছ থেকে প্রস্তাব পাই পাহাড়ী জাতিগোষ্ঠীর নানা বিষয় নিয়ে টিশার্ট এ কাজ করার। এটা শুনে মনে হল আমি যেন এই প্রস্তাবেরই অপেক্ষায় ছিলাম। চাকরি ছেড়ে নেমে পড়ি কাজে। প্রথম দিকে সবাই হাসাহাসি করতো অথবা নিরুৎসাহিত করতো এটা নিয়ে পড়ে না থাকার জন্য। কিন্তু আমরা তারেঙ নিয়ে কাজ এগিয়ে নিয়েছি। আমাদের দলের সদস্য সংখ্যা সময়ের সাথে কমতে লাগলো।কারণ একটি ডিজাইন করতে যত পড়াশোনা আর গবেষণা করে সময় দিতে হয় সে তুলনায় বিক্রি হয় না বললেই চলে। যারা এখন পর্যন্ত আছি আমরা সব সমালোচনা উপেক্ষা করে নিরবে কাজ করে যেতে লাগলাম। আমাদের শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। ২০১৮ সালে এক বছরের মাথায় একটা দোকানের প্লট পাই। কিন্তু তখনও আমাদের টিশার্ট এতটা মার্কেট পায় নি যে শুধু টিশার্ট নিয়ে দোকানের ভাড়া গুণতে পারবো। তখন ভাড়ার টাকা টা ব্যাক আপ দেওয়ার জন্য টিশার্টের পাশাপাশি মোমো বিক্রি করতে শুরু করি। এতে পরিচিতদের মধ্যে হাসাহাসি আরো বেড়ে গিয়েছিল। দোকানে আমি থাকতাম, কাস্টমার সার্ভ করতাম, সবাই মজা করে তাচ্ছিল্য করতো হোটেল বেয়াড়ার কাজ করছি বলে। তবে পরিবার থেকে সাপোর্ট পেয়েছি অনেক, সেটাই টনিকের মত কাজ করতো। এরপর আউটলেট এর লোকেশন পরিবর্তন করে শহরে একটা আউটলেট নিই। এরপর ঢাকায় ও একটা সেল পয়েন্ট নিয়ে ফেলি কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে সেটি বন্ধ করতে হয়। মাত্র আমরা পরিচিতি পেতে শুরু করেছিলাম, এই সময় মহামারীর কারণে প্রায় ৮ মাস কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয় লকডাউনের প্রভাবে। অবশেষে যখন লকডাউন খুললো, তখন আসলে বুঝতে পারি আমাদের লেগে থাকার পরিশ্রম বৃথা যায় নি, কারণ পেজে অনেকেই টিশার্টের খোঁজ করছিল, কাজ শুরু করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছিল। আজ টিশার্টের যে প্লট টি আছে তার পাশের প্লট টিও আমরা নিয়ে নিয়েছি এবং সেখানে তারেঙ টি এন্ড স্ন্যাকস্ কর্ণার নামে একটি ছোট কর্ণার ও চালাচ্ছি। ভালোই লাগে যখন আশেপাশে অনেককে দেখি আমাদের টিশার্ট পরে আছেন এবং বেশ উৎসাহ দিয়ে কথা বলেন।