Description

নামঃ বৈশাখী আক্তার বৃষ্টি
মায়ের একমাত্র সন্তান।
জন্মস্থান হলো রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট জেলার একটা ছোট্ট গ্রাম।
আর আমার বয়স যখন ছয় কি সাত তখন থেকেই এই ব্যাস্ত শহর ঢাকাতে বসবাস।
মা বাবার শখ ছিল মেয়ে ডক্টর হবে।এই ইচ্ছা আমার কোন কালেই ছিল না।কিন্তু সায়েন্স নিয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল পড়েছি।সায়েন্স এর ব্যবহারিক খাতার চিত্র আঁকতাম অনেক ভালোবেসে।একসময় ইচ্ছা হয় চারুকলায় পড়বার। কিন্তু স্কুল এর গন্ডি পেরুনোর পর আর কোন গাইডলাইন পাইনি।মা,বাবা যখন দেখলো ডক্টর হাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই তখন ম্যাথ নিয়ে পড়তে বললো।আমারও পছন্দের বিষয় ছিল ম্যাথ।তাই নিয়েই পড়াশোনা শুরু করি কিন্তু সেখানে কিছু সমস্যার জন্য একবছর পিছিয়ে গেলাম।
বর্তমানে পড়াশোনা করছি ন্যাশনাল এ।অনার্স চতুর্থ বর্ষে মার্কেটিং বিভাগে।
ছোট থেকেই একা একা থেকে আমি অভ্যস্ত।ইন্ট্রোভার্ট, ঘরকুনো বলা যায় আরকি।
এই ঘরে থেকে সময় কাটানোর জন্য আমি এটা সেটা বানাতাম।
বড় হয়ে জানলাম আমি এতকাল যা করে এসেছি এটাকে বলে ক্রাফটিং।
আর এই ক্রাফটিং আমি প্রচুর ভালোবাসি।
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন মা আমাকে ক্রাফট রিলেটেড জিনিস বানিয়ে দিত।
আমার এখনো মনে পড়ে স্কুল এ জমা দেওয়ার জন্য মা আমাকে একবার কালো রংয়ের একটা মাটির মহিষ বানিয়ে দিয়েছিল।এতগুলো সুন্দর ছিল সেটা।আর পুতুল এটা,সেটা তো আছেই।
এখন মনে হয় এই ক্রাফটিং এর প্রতি ভালোবাসাটা মায়ের থেকেই পেয়েছি। ♥
বাবা একজন ব্যবসায়ী।এছাড়া চাকরি করবো এই চিন্তা কখনো মাথায় আসেনি।নিজেকে কিছু করতে হবে এটাই মাথায় ঘুরপাক খেত সবসময়।
আমার বিজনেস করার ইচ্ছা ছিল ইন্টার এ পড়ার সময় থেকেই।ইচ্ছা ছিল কয়েকজন ফ্রেন্ড মিলে করবো। কিন্তু কেউ তখন সারা দেয়নি। আর আমিও একটা বিজনেস একা শুরু করার জন্য সাহস পাচ্ছিলাম না। 💔
মানুষকে সাহায্য করার একটা প্রবনতা আছে আমার মধ্যে।আমার হাতখরচ এর টাকা বাঁচিয়ে যতটুকু সম্ভব এই কাজ করি আমি।আমাকে বাসা থেকে কখনও কোন বাড়তি টাকা দেওয়া হতো না।টাকা বাচানোর জন্য আমি দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে কলেজ এ গিয়েছি।রিক্সায় না উঠে বাসে,লেগুনায় যাতায়াত করা হয়।এরপরও মানুষের মুখে শুনেছি বাবার টাকা তো তাই মায়া নেই, অন্যর জন্য উড়াতে কষ্ট লাগে না।
আমি মাঝে মাঝেই মা’কে বলি আচ্ছা মা মানুষ এত টাকা টাকা করে কেন? এত টাকা দিয়ে কি হবে?
এরপর যখন কেউকে সাহায্যর কথা বলি।
আম্মু তখন উওর দেয়, নিজে কিছু করে টাকা উপার্জন কর অনেক। তাহলেই তো সাহায্য করতে পারবি।তখন কিছু করার অগ্রহ আরও বেড়ে যেত আমার।
একদিন আমার মিরর দিয়ে কাজ করার ইচ্ছা হয়েছিল। এরপর সেই মিরর কিনতে গিয়ে সেখানে উড বেজ পেলাম। নিজের জন্য গহনা বানানোর ইচ্ছা হলো। আর আঁকিবুঁকি তো আমি মোটামুটি পারিই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই।সেখানে থেকে কিছু বেজ কিনে এনে নিজের জন্য কিছু গহনা বনাই। অনেকেই প্রসংশা করলো গহনা দেখে।
এরপর হঠাৎ করেই একটা পেজ খুলে ফেলি ২০১৯ এ। পেজ খোলার বিষয় এ অনুপ্রেরণা দিয়েছে আমার এক বান্ধবী। নাম মাথিন। ও অনুপ্রাণিত না করলে একা একা এত তাড়াতাড়ি হয়তো কোন উদ্যোগ নেওয়ার সাহস পেতাম না। আরও অনেকটা সময় লেগে যেত।
আমি আসলে এখনও পুরাদস্তুর  ব্যাবসায়িক হয়ে উঠতে পারিনি। আমি এখনও শেখার পর্যায়ে আছি।অনেক কিছু শিখেছি , অনেক কিছু শিখছি। নিজেকে জানছি আস্তে আস্তে। আর আমি ভাগ্যবতী কারণ এই সেক্টর এ অনেক বড় আপুদের পেয়েছি আমি। আর আপুরা আমাকে টুকিটাকি অনেক বিষয় এ সাহায্য করেছে।
আমি আমার কাজ শুরু করি আমার হাতখরচ এর কিছু টাকা থেকেই। টুকিটাকি সাপোর্ট ছাড়া সেইরকম কোন সাপোর্ট আমি পাইনি কখনো।  আমার এই কাজের কথা এখনও বাবা জানে না। একদিন বলেছিলাম এইরকম কিছু করবো। বাবা এমন ভাবে তাকিয়েছে আর কিছু বলার সাহস পাইনি।
বর্তমানে আমি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।
আমার উদ্যোগের নাম ক্ষুদ্র। আমি এখন সাধারণত হাতে বানানো গহনা নিয়ে কাজ করছি।যেমনঃকাঠের বেজে হ্যান্ডপেইন্ট গহনা,হ্যান্ড স্টিচ এর গহনা।
এছাড়া টুকটাক ড্রেসে,ব্লাউজ পিস এ হ্যান্ডপেইন্ট করি।ভবিষ্যতে আরও কিছু হ্যান্ডমেইড পন্য যোগ করার ইচ্ছা আছে আমার উদ্যোগে।
আমার উদ্যোগের স্লোগান হলো ”সাধ্যের মধ্যে স্বপ্ন সাজাই।”
হ্যাঁ, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমি আমার নিজের এবং অন্যদের স্বপ্ন সাজাতে চাই।
পথটা সহজ ছিল না আমার জন্য। এখনও সহজ নয়।গাইডলাইন দেওয়ার মতো কেউ নেই। লড়াই করেই চলছি।এখন আমার কাছে আছে শুধু নিজের উপর বিশ্বাস, প্রচুর ধৈর্য।যাই হোক লেগে থাকতে হবে আমাকে।জীবনের নেগেটিভ বিষয় গুলো তুলে ধরতে আমি  কিছুটা অপছন্দ করি।তাই দূর থেকে কেউ দেখলে ফুলে ভরা পথটা দেখতে পায়। ফুলের নিচের কাটাগুলো শুধু আমার।
ইন-শা-আল্লাহ একদিন আমি আমার স্বপ্ন গুলো সাজাতে পারবো সুন্দর করে।
সবাই ভালো থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।
আমার জন্য দোয়া করবেন।
স্বত্বাধিকারী: ক্ষুদ্র

Photos